ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হয়। সেখানে তার তিন ছেলে মোস্তফা, মাসুদ ও মেইসাম খামেনি উপস্থিত ছিলেন। তবে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা এবং খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে জানাজায় দেখা যায়নি। অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি জানাজায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানা গেছে।
তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আলি খামেনি ও পরিবারের অন্য চার সদস্যের কফিন রাখা হয়। সেখানে মোস্তফা, মাসুদ ও মেইসাম খামেনিকে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় তাদের চেহারায় শোকের ছাপ ছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে খামেনির তিন ছেলের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৪ বছর বয়সী মোস্তফা খামেনি একজন শিয়া ধর্মগুরু এবং প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার সন্তানদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত এবং বর্তমানে তিনি ইরান সরকারের কোনো পদে নেই। তবে ধর্মীয় মহলে তাকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়।
খামেনির তৃতীয় পুত্র ৫২ বছর বয়সী মাসুদ খামেনিও একজন ধর্মগুরু। তিনি বাবার রচনাবলি সংরক্ষণ ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক। সংস্কারপন্থী সংবাদমাধ্যম ইরানওয়্যারের তথ্যমতে, তিনি একটি বৃহৎ প্রচারযন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করেন, যার একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে।
খামেনির কনিষ্ঠ পুত্র ৪৮ বছর বয়সী মেইসাম খামেনি তার ভাইদের তুলনায় জনসমক্ষে কম আসেন। তিনিও সর্বোচ্চ নেতার রচনাবলি সংরক্ষণ ও প্রকাশনা দপ্তরে কাজ করেছেন।
জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন মোজতবা খামেনির শ্বশুর গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেল এবং খামেনির জামাতা মোহাম্মদ মোহাম্মদী গোলপায়েগানি। এছাড়া চার বছর বয়সী কন্যা জাহরাকে একটি ছোট কফিনে দাফনের জন্য আনা হয়।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার জামাতা, নাতনিসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান।
আরও পড়ুন:








