শুক্রবার

৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

শান্তি আলোচনার সময় আরাগচিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬ ০৯:১০

শেয়ার

শান্তি আলোচনার সময় আরাগচিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল
ছবি সংগৃহীত

চলতি বছরের বসন্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোপন শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা ছিল ইসরাইলের অন্যতম প্রধান কৌশল। তবে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ওপর হামলা হলে পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে।

এ আশঙ্কার পর মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সতর্কবার্তা পাঠায় যে, ইসরাইল তাদের শীর্ষ আলোচকদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইসরাইলকেও এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।

মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের তীব্র পর্যায়ে আরাগচি ও গালিবাফকে ইসরাইল সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করলেও শান্তি আলোচনা শুরুর পর তাদের ওপর হামলা নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কৌশলগত লক্ষ্য অনেকটাই এক ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়। ওয়াশিংটন একটি রাজনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পক্ষে থাকলেও ইসরাইল ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, প্রক্সি নেটওয়ার্ক ধ্বংস এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যেই অটল ছিল।

দুই সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পরও আরাগচি ও গালিবাফ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখেন। জুন মাসে উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি তৈরি করা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকদের একাংশ এই সমঝোতাকে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে, যা দেশটির সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।

ওয়াশিংটনে ইসরাইলি দূতাবাসের মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অপরদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় আরাগচি ও গালিবাফের নাম ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার পর সাময়িকভাবে তাদের নাম ওই তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন জানতে পেরেছিল যে অন্তত গালিবাফ ইসরাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন। এরপরই ওয়াশিংটন ইসরাইলকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরান তাদের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা জোরদার করে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নির্ধারিত এক বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়ার সময় ইরান পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিল, যাতে আলোচনার সময় ইসরাইল কোনো গোপন হামলা না চালায়।

ফেরার পথে সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর গালিবাফকে বহনকারী বিমানটি ইরানের মাশহাদ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। পরে প্রতিনিধিদল সড়কপথে তেহরানে ফিরে যায়।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।



banner close
banner close