বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা চালুর পর দুই দেশের মধ্যে বন্ধ থাকা যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে। তবে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১ জুলাই) ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রেলের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক রাজিব সাক্সেনা এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। দুই দেশের সরকার থেকে নির্দেশনা পাওয়া গেলে ভারতীয় রেলওয়ে দ্রুত ট্রেন চলাচল শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাজিব সাক্সেনা বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মিতালী এক্সপ্রেস, মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো বড় ধরনের সমস্যা হবে না। প্রয়োজনীয় কোচ মজুত রয়েছে এবং নির্দেশনা পেলেই দ্রুত ট্রেন প্রস্তুত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নতুন করে ট্রেন গঠন করা ভারতীয় রেলওয়ের জন্য কঠিন কোনো বিষয় নয়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ-ভারত রুটে চলাচলকারী মিতালী, মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের যাত্রা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়নি। একই সময়ে ভিসা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দেয়।
তবে চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। ২৮ জুন থেকে ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হয়।
পর্যটক যাতায়াত বৃদ্ধির সম্ভাবনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ী মহলেও ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ এবং পর্যটন খাত আরও গতিশীল হবে।
আরও পড়ুন:








