মঙ্গলবার

৩০ জুন, ২০২৬ ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

চীনের সেনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, অস্বীকার ভারতীয় বাহিনীর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬ ১৭:২০

শেয়ার

চীনের সেনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, অস্বীকার ভারতীয় বাহিনীর
ছবি সংগৃহীত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে বিস্তৃত এলাকা দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিরুদ্ধে। স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এই অভিযোগ তুলেছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে পাকাপোক্ত সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে চীনা বাহিনী। আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আদিবাসীদের সংগঠনটির অভিযোগ, গত ছয় বছর ধরে চীনা বাহিনীর দখলদারির কারণে স্থানীয়দের চাষাবাদ ও পশুচারণ বন্ধ রয়েছে।

তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনা সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ সংবলিত প্রতিবেদনগুলো ভুল এবং ভিত্তিহীন।

অরুণাচল প্রদেশের উত্তরাংশে চীনের তিব্বত ভূখণ্ড সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী নাহ আদিবাসীদের সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি কেরু চাদের টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ওই জমি তাদের পূর্বপুরুষদের, যেখানে বহু যুগ ধরে তারা শিকার, পশুচারণ ও চাষাবাদ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবনসিরি জেলার অন্তত পাঁচটি এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে চীনা সামরিক বাহিনী স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণ করেছে এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধা দিচ্ছে।

কেরু চাদের জানান, ১২ বছর আগে মাঝেমধ্যে ওই এলাকাগুলোতে চীনা সেনাবাহিনী প্রবেশ করত। তবে ২০২০ সালে তারা পাকাপাকিভাবে ওই ভূখণ্ড দখল নেয়, এরপর থেকেই স্থানীয়দের সেখানে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, আসাফিলা এলাকায় ওয়িং ও পানিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান (মারনাফে), পোত্রাং (হ্রদ) ও টিনডিংতাং (টিজি)-তে চীনের এমন দখলদারির ঘটনা ঘটেছে। স্থানগুলো তাকসিং সদর দপ্তরের কাছাকাছি অবস্থিত এবং কয়েকটি এলাকাকে স্থানীয়রা তীর্থস্থান হিসেবেও বিবেচনা করেন।

আপার সুবনসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে কেরু চাদের বলেন, কয়েক বছর আগেও যেসব পূর্বপুরুষের জমিতে তারা অবাধে শিকার করতেন, বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন এবং গবাদিপশু চরাতেন, সেগুলো এখন চীনা সামরিক বাহিনীর দখলে। নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অভিযোগ, আপার সুবনসিরির তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন পাঁচটি এলাকায় চীন ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করছে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো কৌশলগতভাবে দখল করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় অভিযোগগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, গত ১০ থেকে ১৫ বছরে তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চীনের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং যত বেশি সম্ভব এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াই চীনা সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য। ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে চীনা সেনাবাহিনী সামরিক ক্যাম্প ও সড়ক নির্মাণ করেছে বলেও স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়।

কেরু চাদের বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা বহু বছর ধরে সীমান্ত রক্ষা করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু তাদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাকসিং এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনীর তৎপরতার গতি ও উদ্দেশ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন ইঞ্চি ইঞ্চি করে নিজেদের ভূমি হারাচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আপার সুবনসিরি জেলা প্রশাসন বা অরুণাচল প্রদেশ সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।



banner close
banner close