মঙ্গলবার

৩০ জুন, ২০২৬ ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

এখন থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে চাইলে গুনতে হবে ১৬ লাখ টাকা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬ ১৩:৫৮

শেয়ার


এখন থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে চাইলে গুনতে হবে ১৬ লাখ টাকা
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যয় বাবদ প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের নিয়ম রেখে নতুন অভিবাসন আইন আনতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রস্তাবিত এই আইনটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা সেটেলমেন্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। সরকারের পক্ষ থেকে এই আয়ভিত্তিক পরিশোধ ব্যবস্থাকে শিক্ষা ঋণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে শরণার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ হিসেবে অভিহিত করেছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে জানান, বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তায় বছরে প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হওয়ায় সরকার চাপের মুখে রয়েছে। তার মতে, সরকারি সহায়তা পাওয়া যেমন অধিকার, তেমনি সামর্থ্য অনুযায়ী ব্রিটিশ জনগণের উদারতার প্রতিদান দেওয়াও একটি দায়িত্ব। মানুষ যখন আয় করতে সক্ষম হবে, তখন তাদের কাছ থেকে এই অবদান প্রত্যাশা করে সরকার।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই পরিকল্পনা থেকে আয় আসার সম্ভাবনা খুবই সীমিত। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন জানান, তথ্য অনুযায়ী সফল আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক শরণার্থীই এই অর্থ পরিশোধের মতো পর্যাপ্ত আয় করেন। ২০২৩ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পাঁচ বছর পরও মাত্র ১৩ শতাংশ ব্যক্তির বার্ষিক আয় ছিল ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি। অবশিষ্টরা হয় কর্মহীন ছিলেন অথবা এর চেয়ে কম আয় করছিলেন।

প্রস্তাবিত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল-এ আরও বেশ কিছু কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৮-এর প্রয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশনা, অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং আধুনিক দাসত্ব বা মডার্ন স্লেভারি সংক্রান্ত আইনি কাঠামো সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। মূলত দেরিতে দাবি উপস্থাপনের প্রবণতা বন্ধ করতেই এই আইনি সংশোধন আনা হচ্ছে।

হোম অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আয়সীমাসহ প্রকল্পের বিস্তারিত বিষয়গুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে। এসব চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রকৃত ব্যয় ও কার্যকারিতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই প্রকল্প সফল আশ্রয়প্রার্থীদের বৈধভাবে কাজ খুঁজে নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে অথবা অর্থ পরিশোধ এড়াতে তারা বিকল্প আবাসনের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



banner close
banner close