মঙ্গলবার

৩০ জুন, ২০২৬ ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১৭১৯

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬ ০৯:১৬

শেয়ার

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১৭১৯
ছবি সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পৌঁছানোয় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার (২৯ জুন) কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হলেও তাতে নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে শাবল, হাতুড়ি ও কোদালের মতো সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। উদ্ধারকাজের বড় অংশই এখন সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার হওয়া এখন অনেকটাই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সময় পার হওয়ার সাথে সাথে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসলেও সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই বিপর্যয়কে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। বর্তমানে প্রতিটি জীবন বাঁচানোই সরকারের বড় অর্জন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডেলসি রদ্রিগেজ আরও জানান, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে একটি রঙভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, যার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে কারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হচ্ছে।

তবে উদ্ধার অভিযানে সরকারি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। কারাকাসের পশ্চিমে এল জুনকুইতো পাহাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, উদ্ধার অভিযানে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি খুব সামান্য। মূলত স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের সরবরাহ করা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গত মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্ধারকাজে তাদের তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতিসংঘ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।



banner close
banner close