সোমবার

২৯ জুন, ২০২৬ ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ১৫০০

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬ ১০:৪৮

শেয়ার

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ১৫০০
ছবি সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, রোববারও জীবিত মানুষ উদ্ধার করা হয়েছে। তাই অভিযান বন্ধ করা হচ্ছে না। আমরা আশা ধরে রেখেছি।”

গত বুধবার সংঘটিত ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্য। সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সরকার একটি প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন গঠন করেছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে লা গুয়াইরায় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ৭৫ শতাংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্কুলগুলোর ক্লাস আরও এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন, ১২ হাজার ৭২১ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ৭৭৪টি ভবন ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং জীবিতদের উদ্ধারের কাজ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।

সরকারের তথ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ কয়েকজন শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ১০ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শত শত আফটারশকের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এরই মধ্যে ২ হাজার ৬০০-এর বেশি বিদেশি উদ্ধারকর্মী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন। তাদের আগমনের আগে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন।

রোববার ধসে পড়া একটি ভবনের নিচ থেকে এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ১১ বছর বয়সী মোইসেস নামের এক শিশুকে কলম্বীয় উদ্ধারকারী দল জীবিত উদ্ধার করেছে। মেক্সিকান উদ্ধারকারীরাও আরেক ১১ বছর বয়সী শিশুকে উদ্ধার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তা হলে এটি গত শতাব্দীর লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হবে।

সুইস উদ্ধারকারী দলের নেতা সেবাস্তিয়ান ইউগস্টার বলেন, সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। তার ভাষায়, সময় যত গড়ায়, জীবিত উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা তত কমে আসে।

এদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরে নোবেল পুরস্কার গ্রহণের জন্য দেশ ত্যাগ করেন।

অন্যদিকে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্যালকন রাজ্যে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর রোববার ভেনেজুয়েলার বৃহত্তম তেল শোধনাগার ‘আমোয়াই’ সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স।



banner close
banner close