বৃহস্পতিবার

২৫ জুন, ২০২৬ ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

কিশতওয়ারে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর সেনাসদস্যদের হামলা ও মামলা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ১৮:৫৫

শেয়ার

কিশতওয়ারে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর সেনাসদস্যদের হামলা ও মামলা
ছবি সংগৃহীত

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে সেনাবাহিনীর এক কর্নেল ও এক মেজরসহ ৪০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় সেনাসদস্যকে আথোলি থানায় দায়েরকৃত এফআইআরে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার অমৃত কাটোচের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, সেনাসদস্যরা লাঠি, রড এবং সরকারি অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক থানার প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর সহিংস আক্রমণ চালান। হামলার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং স্টেশন হাউস অফিসার অমৃত কাটোচ। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সেনাসদস্যরা স্টেশন হাউস অফিসারের ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পাড্ডারের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে জেলা কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালে এই হামলার সূত্রপাত হয়। স্টেশন হাউস অফিসার ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাকালীন থানার ভেতরে সহিংসতার খবর পান। তিনি দ্রুত থানায় ফিরে এলে মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর শারীরিক হামলা চালান। পুলিশ দাবি করেছে যে এই হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে সেনাসদস্যরা দলবদ্ধভাবে থানায় হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান যে সেনাবাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে একটি যৌথ তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।



banner close
banner close