ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হত্যা, উচ্ছেদ ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা। সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে হিন্দু চরমপন্থি বেসরকারি ব্যক্তিদের হাতে অন্তত ১৩ জন মুসলমান ঘৃণাজনিত অপরাধে নিহত হন, এবং একই সময়ে নিরাপত্তা সংস্থার হাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হিন্দু চরমপন্থি গোষ্ঠীর হাতে গণপিটুনি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় ২৭ জন মুসলমান এবং একজন দলিত নিহত হন; প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় সংস্থার হাতে নিহতের পৃথক সংখ্যা উল্লেখ নেই।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজ্যের একাধিক জেলায় উচ্ছেদ ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর)-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মে মাসের ৪ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে রাজ্যের আটটি জেলায় অন্তত ৩৪টি সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত দুজনের প্রাণহানি ও ৫০ জনের বেশি ব্যক্তি আহত হন বলে উল্লেখ করা হয়।
কলকাতার তপশিয়া এলাকায় বুলডোজার অভিযানে গৃহহীন হওয়া বাসিন্দা মুহাম্মদ ইরফান অভিযোগ করেন, প্রশাসন তাদের জিনিসপত্র সরানোর সময়টুকুও দেয়নি। প্রায় ৩০ জন বাসিন্দা এই অভিযানে গৃহহীন হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মসজিদ-দরগাহ ভাঙার অভিযোগ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস ফর অল-এর বিবৃতি অনুযায়ী, মে মাস থেকে ভারতের ছয়টি রাজ্যে অন্তত ২৩টি মসজিদ, দরগাহ, ঈদগাহ ও মাদরাসা ভেঙে ফেলা হয়েছে। সংগঠনটি দিল্লির দরগাহ পঞ্চ পীরান, জয়পুরের নূরানি মসজিদ এবং বারাণসীর গঞ্জ শাহিদা মসজিদ ভাঙার ঘটনার উল্লেখ করেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিক্রিয়া
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে জানায়, গুজরাটের খেদা জেলায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পাথর ছোড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার মুসলিম পুরুষদের পুলিশি হেফাজতে বেত্রাঘাতের ঘটনা ঘটে। সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, কয়েকটি রাজ্যের কর্তৃপক্ষ বিচারবহির্ভূত শাস্তির পথ নিচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশের খারগোন জেলায় একটি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর কর্তৃপক্ষ অন্তত ১৬টি বাড়ি ও ২৯টি দোকান ভেঙে দেয় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এই উচ্ছেদকে ন্যায্যতা দিয়ে বলেন, অভিযুক্ত শনাক্তে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে দাঙ্গাপ্রবণ এলাকার স্থাপনা ভাঙা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিবেদন ও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ
মার্কিন মানবাধিকারকর্মী স্টিফেন জে. র্যাপ গত ৪ মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আসামে বাংলাভাষী মুসলিমদের নাগরিকত্ব হরণ এবং পুলিশি অভিযানে মৃত্যুর ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আসাম সরকারের প্রথম তিন বছরে পুলিশি অভিযানে ৮৩ জন এবং উত্তরপ্রদেশে আদিত্যনাথ সরকারের সাত বছরে ২৬৬ জন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:








