পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম, ভিভিপ্যাট মেশিন ও সিসিটিভি ফুটেজ সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে গত ১৬ জুন কলকাতা হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন দাখিল করেন তিনি। সেই মামলার শুনানিতেই মঙ্গলবার আদালত এই নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুসারে, ভবানীপুরের ভোট গণনা যে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই স্কুলের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গনের সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অক্ষত রাখতে হবে। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোনো তথ্য বা ফুটেজ মুছে ফেলা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই হাইপ্রোফাইল মামলায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সুব্রত গুপ্ত এবং সুনীল আগরওয়ালকে পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশকে রাজনৈতিক ও আইনি মহল তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, ভোট গণনার দিন ১২ রাউন্ড পর্যন্ত প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলছিল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ১৩তম রাউন্ড থেকে পরিস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে বদলে যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টদের মারধর করে গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়, যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির এজেন্টদের সহযোগিতা করে। এ সংক্রান্ত সব তথ্য সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি আদালতে দাবি করেন।
ভোটে হেরে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নতুন নয়। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে পরাজিত হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। সেই মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
আরও পড়ুন:








