গত এক দশকে ব্রিটেন রাজনৈতিকভাবে এক নজিরবিহীন অস্থির সময় পার করছে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তিত হয়েছেন। মূলত ব্রেক্সিট পরবর্তী মেরূকরণ, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সরকারি বাসভবনে নেতৃত্বের এই ঘনঘন রদবদল ঘটছে।
ব্রিটিশ সংসদীয় গণতন্ত্রের বিশেষ নিয়মানুযায়ী দেশটির ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। হাউজ অব কমন্সের নির্বাচনে জয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতারাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতাসীন দল চাইলে অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে যেকোনো সময় তাদের নেতা পরিবর্তন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা দলের আস্থা হারালে নতুন সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সুযোগ থাকায় গত চার বছরেই চারজন নেতা পরিবর্তিত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সাধারণ নির্বাচন বাধ্যতামূলক হলেও ক্ষমতাসীন দল চাইলে যেকোনো সময় আগাম নির্বাচন ডাকতে পারে।
২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে গণভোটের রায় আসার পর থেকে এই অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইইউ-তে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর থেরেসা মে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের চেষ্টা করলেও দলীয় বিরোধের কারণে ২০১৯ সালে বিদায় নিতে বাধ্য হন। তাঁর উত্তরসূরি বরিস জনসন ২০২০ সালের নির্বাচনে বড় জয় পেলেও পার্টিগেট কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন নৈতিক বিতর্কের জেরে ২০২২ সালে ক্ষমতা ছাড়েন। এরপর লিজ ট্রাস দায়িত্ব নিয়ে বিতর্কিত অর্থনৈতিক নীতির কারণে মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা ব্রিটিশ ইতিহাসে ক্ষুদ্রতম মেয়াদ। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন করলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।
বর্তমানে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও তিনি নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। পিটার ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা নিয়ে বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে দলের পরাজয় তাঁর নেতৃত্বকে সংকটে ফেলেছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে তাঁর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। এ অবস্থায় ব্রেক্সিট আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে।
ওপিনিয়ন রিসার্চ সংস্থা মোর ইন কমন-এর ইউকে ডিরেক্টর লিউক ট্রিলের মতে, ২০১৬ সাল থেকে ব্রিটিশ ভোটাররা মূলত পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন। কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন না আসায় এই দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৯ সালের আগস্টের আগে সাধারণ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রাজনৈতিক চাপের মুখে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।
সূত্র: সিবিসি নিউজ
আরও পড়ুন:








