ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ২২ জুন উত্তর-পশ্চিম লখনউয়ের আলীগঞ্জ এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন থেকে বাঁচতে ভবনটির প্রথম তলা থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিচে লাফিয়ে পড়েন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিন তলাবিশিষ্ট ওই ভবনটির ওপরের তলায় প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির প্রথম তলায় একটি কোচিং সেন্টার এবং নিচের অংশে একটি পোষা প্রাণীর দোকানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের ভেতরে শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ আটকা পড়লে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি জানালার কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে একটি বেড়ার ওপর পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আগুন লাগার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী ভবন থেকে লাফ দেন, যার ফলে একজনের হাত-পা ভেঙে গেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধার অভিযান শেষে ভবনটি থেকে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধারকাজ পর্যবেক্ষণ করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








