বৃহস্পতিবার

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০৪

শেয়ার

ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
ছবি সংগৃহীত

ভারতের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। দিল্লির পক্ষ থেকে ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি এই কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন।

শনিবার পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ জানান, পাকিস্তান যখনই অনুভব করবে যে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং এর অবিচ্ছেদ্য অংশ পানি হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত যদি আশঙ্কাজনক গতিতে পাকিস্তানের পানি সরবরাহ ব্যাহত করার কোনো পদক্ষেপ নেয় এবং ইসলামাবাদ এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়, তবে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য মূলত গত এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পাহলগামে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে এসেছে। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত সরকার সিন্ধু নদ জলচুক্তিটি দৃঢ়ভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের সীমান্ত পারের সমস্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে নির্ভরযোগ্য ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেবে, ততক্ষণ এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এই চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তান সিন্ধু অববাহিকার প্রায় ৮০ শতাংশ পানি ব্যবহারের আইনি অধিকার রাখে। তবে বর্তমানে পাকিস্তানের বিশাল ফসলি জমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার জন্য খাজা আসিফ নয়াদিল্লিকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং চেনাব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রাখছে।

অবশ্য খাজা আসিফ এক পর্যায়ে স্বীকার করেন যে, অতীতে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল ভারতের বিভিন্ন জলপ্রকল্প প্রায় ১১৫ বার পরিদর্শন করলেও বিগত এক বছরে সীমান্তের ওপাড়ে হওয়া উন্নয়ন বা পরিবর্তন সম্পর্কে বর্তমানে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার নাজুক অবস্থার কারণে দেশটির সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখন তীব্র পানির সংকটে ভুগছেন। সিন্ধু প্রদেশের সেচ বিভাগের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সেচ অবকাঠামো চরম ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম খালে ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ, রাইস খালে ৩৮ শতাংশ এবং দাদু খালে সর্বোচ্চ ৮২ শতাংশ পর্যন্ত পানির ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

দক্ষিণ পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সুক্কুর ব্যারেজে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয় নেতারা বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রদেশের অভ্যন্তরীণ পানি বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিরোধের সমাধান করতে সরকারের ব্যর্থতাই এই বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।

সূত্র: এনডিটিভি।