সোমবার

২২ জুন, ২০২৬ ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টি মসজিদ-মাদরাসা উচ্ছেদ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬ ২০:১৭

শেয়ার

ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টি মসজিদ-মাদরাসা উচ্ছেদ
ছবি সংগৃহীত

ভারতের ছয়টি রাজ্যে গত দেড় মাসে ২৩টিরও বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিকভাবে অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম কাশ্মির মিডিয়া সার্ভিস ও মুসলিম মিররের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ মে থেকে ১৮ জুনের মধ্যে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান ও হরিয়ানায় এসব ঘটনা ঘটেছে এবং এর প্রায় সবগুলোই বিজেপি-শাসিত রাজ্যে সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তালিকার মধ্যে রয়েছে দিল্লির মাঙ্গোলপুরিতে দরগাহ পাঁচ পীরান ও একটি মাদরাসা, হরিয়ানার ফরিদাবাদে একটি মসজিদ, মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় দুটি মসজিদ, গুজরাটে তিনটি দরগাহ ও একটি কবরস্থান, মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ে একটি দরগাহ, বারাণসীতে আজগাইব শহীদ মসজিদ, পুনের বোপোদিতে একটি দরগাহ, উত্তর প্রদেশের সম্ভলে একাধিক দরগাহ-মসজিদ-ঈদগাহ, রাজস্থানের জয়পুরে নুরানি মসজিদ, মহারাষ্ট্রের ভয়ান্দরে নুরি মসজিদ এবং বারাণসীতে গঞ্জ শহীদা মসজিদ। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটে ১৮ জুন, যখন রাজস্থানের বারমের জেলার মালানা গ্রাম এলাকায় চারটি মসজিদ ভাঙা হয়।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ, রেলওয়ে ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং অনুমোদনহীন স্থাপনা অপসারণের অংশ হিসেবে এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, এসব পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নোটিশ দেওয়ার পর অভিযান চালানো হয়েছে।

তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও অধিকারকর্মীরা ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, একাধিক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে নোটিশ জারির পরপরই ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে এবং একই এলাকায় অনুমোদনহীন হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনাকে অভিযানের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাজস্থানে সিভিল রাইটস সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটসের রাজ্য সভাপতি সৈয়দ সাদাত আলী এই উচ্ছেদ কার্যক্রমের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, নোটিশ জারি ও ভাঙার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল অস্বাভাবিকভাবে কম।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর অল এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাঁচ দিনের মধ্যে তিনটি মসজিদ ভাঙার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দেশটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যের একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।

ঘটনাগুলো নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরেও মতবিভেদ দেখা গেছে। একপক্ষ একে আইন প্রয়োগ ও অবৈধ দখলমুক্তকরণের অংশ বলে সমর্থন করছে, অন্যপক্ষ ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাইকোর্ট অতীতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে উচ্ছেদ চালানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: কাশ্মির মিডিয়া সার্ভিস, মুসলিম মিরর



banner close
banner close