সোমবার

২২ জুন, ২০২৬ ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

ভারতের নৌবাহিনীর বহরে তিন যুদ্ধজাহাজ, মিলবে অত্যাধুনিক সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬ ১৫:০৬

আপডেট: ২১ জুন, ২০২৬ ১৫:০৮

শেয়ার

ভারতের নৌবাহিনীর বহরে তিন যুদ্ধজাহাজ, মিলবে অত্যাধুনিক সুবিধা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নৌবহরে অত্যাধুনিক তিনটি যুদ্ধজাহাজ যুক্ত হয়েছে। রবিবার কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি নৌজাহাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জাহাজগুলো ভারতের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করবে। এই জাহাজগুলো যুদ্ধ পরিচালনা, জরিপ এবং সাবমেরিন বিরোধী অভিযানে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

নতুন যুক্ত হওয়া জাহাজ তিনটির নাম যথাক্রমে স্টিলথ ফ্রিগেট ‘দুনগিরি’, জরিপ পরিচালনাকারী জাহাজ ‘সংশোধক’ এবং অগভীর পানিতে সাবমেরিন বিরোধী যুদ্ধযান ‘অগ্রে’। এগুলো সামুদ্রিক যুদ্ধ, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং সাবমেরিন বিরোধী যুদ্ধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উদ্বোধনের আগে দুনগিরির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ভারতের নৌবাহিনী। এতে জাহাজটিকে শক্তিশালী ও উন্নত যুদ্ধজাহাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

নৌবাহিনী বলছে, দুনগিরি আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সেন্সর সমৃদ্ধ। দেশীয় স্টিলথ প্রযুক্তিতে তৈরি জাহাজটি দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থান করে বহুমুখী আক্রমণ ও শত্রুকে দমন করতে পারবে। জাহাজটি ব্রহ্মোস সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল এবং মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের মতো উন্নত অস্ত্রে সাজানো হয়েছে।

‘সংশোধক’ নামের জাহাজটি উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটিতে আন্ডারওয়াটার ভেহিকল এবং রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল সিস্টেম রয়েছে।

‘অগ্রে’ নামের জাহাজটি অগভীর পানির সাবমেরিন বিরোধী জাহাজ। এটির হালকা ওজনের টর্পেডো, দেশীয় রকেট লঞ্চার এবং অগভীর পানিতে শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করার সক্ষমতা রয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত কেবল ক্রেতা হয়ে থাকতে পারে না। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্ববাজারে পণ্য হতে পারে না। তিনি জাহাজ তিনটিকে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও সামর্থ্যের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের সামুদ্রিক শক্তি যত বেশি, তারা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবও তত শক্তিশালী হবে। ভারত এই বাস্তবতা ভালোভাবেই বোঝে। ভারত এজন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে যখন আমরা আইএনএস বিক্রান্তকে জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছিলাম, তখন ভারতের সামুদ্রিক শক্তির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। আইএনএস বিক্রান্ত থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা কেবল নতুন যুদ্ধজাহাজ তৈরির যাত্রা নয়, এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান স্বনির্ভরতারও যাত্রা। আজ আইএনএস অগ্রে, আইএনএস দুনগিরি এবং আইএনএস সংশোধক সেই যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



banner close
banner close