ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। যদিও একই দিন বিকেল ৪টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরানের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল লেবাননে চলমান সংঘাত প্রশমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়ের পরও দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ১২টি বিমান হামলা এবং ধারাবাহিক গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক গালফ কূটনীতিক জানান, উভয় পক্ষ শত্রুতা বন্ধে সম্মত হলেও চুক্তি কঠোরভাবে বাস্তবায়িত না হলে পরিস্থিতি আবারও অবনতির দিকে যেতে পারে। একই সময়ে রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে বলে তারা ধারণা করছেন।
আল জাজিরাকে হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা জানান, ইসরাইল চুক্তির শর্ত মেনে চললে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে। অন্যদিকে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছেন, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে হামলা না হলে তাদের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়।
তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দারা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। টাইর শহর থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট জানান, অতীতের মতো এবারও যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, ফলে এটিকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি হিসেবে দেখা কঠিন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে আলোচনা আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, যেকোনো আলোচনার ভিত্তি হতে হবে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উভয় পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ এবং সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা।
আরও পড়ুন:








