শুক্রবার

১৯ জুন, ২০২৬ ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: নৌ অবরোধ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬ ০৮:৪৭

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: নৌ অবরোধ প্রত্যাহার
ছবি সংগৃহীত

ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌযানের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে। আলজাজিরার বরাতে এ খবর জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে সেন্টকম জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজের চলাচলে মার্কিন বাহিনী আর কোনো বাধা দিচ্ছে না এবং অবরোধ প্রয়োগের সব কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। তবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার সব দিক যথাযথভাবে মানা ও বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই এলাকায় মোতায়েন থাকবে।

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী এক ডজনের বেশি জাহাজকে অবরোধ পেরিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবরোধ প্রত্যাহার ও ইরানি তেল চলাচলের অনুমতি দেওয়া ইরানের জন্য নতুন কোনো সুবিধা নয়, কারণ অবরোধ আরোপের আগেও বহু বছর ধরে ইরান তেল বিক্রি করে আসছিল। ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই সব মুনাফার কার্ড রয়েছে এবং আচরণে পরিবর্তনের প্রমাণ দেওয়ার আগ পর্যন্ত ইরান তেমন কোনো সুবিধা পাবে না।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং যুদ্ধের সময় প্রণালিতে পাতা মাইন অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বুধবার ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন, যা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়। সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধ করা, লেবানন পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর সতর্কতা মেনে নেওয়া ১৪২টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করানো হয় এবং সতর্কতা অমান্য করা ৯টি জাহাজ অক্ষম করে দেওয়া হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক হিসাব অনুযায়ী, এই অবরোধের কারণে ইরানের প্রায় ৪৮০ কোটি ডলার তেল রপ্তানি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয় নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এ আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং চলতি সপ্তাহান্তে সুইজারল্যান্ডে যেতে পারেন বলে জানা গেছে, যদিও নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।



banner close
banner close