বৃহস্পতিবার

১৮ জুন, ২০২৬ ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকর: খুলছে হরমুজ প্রণালি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬ ০৯:৩৬

আপডেট: ১৮ জুন, ২০২৬ ১১:৩৭

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকর: খুলছে হরমুজ প্রণালি
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির সরাসরি প্রভাব হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতাকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশ বিস্তারিত আলোচনা চালাবে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে এই আলোচনার সময়সীমা আরও বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে। পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে কমিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।

এই চুক্তির একটি বিশেষ দিক হলো ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল পরিকল্পনা। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে না। মূলত আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এই অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এই সমঝোতায় লেবানন ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষই লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি নতুন কোনো সামরিক অভিযান না চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, পথটি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই সমঝোতার বাইরেও বেশ কিছু জটিল বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী দুই মাসের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই চুক্তি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা অভিযোগ তুলেছেন যে, ইরানের কাছ থেকে পর্যাপ্ত ছাড় না নিয়েই ওয়াশিংটন অনেক বেশি সুবিধা প্রদান করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব না হলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথ খোলা থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ বজায় থাকবে।



banner close
banner close