যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর সম্ভাব্য বিষয়বস্তু সামনে এসেছে। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এতে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।,
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ও রয়েছে। এতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত ১৪ দফার মূল বিষয়গুলো হলো-
১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবিলম্বে ও স্থায়ী অবসান এবং একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার অঙ্গীকার।
২. যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
৩. সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা সম্পন্ন করা হবে। সময়সীমা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যাবে।
৪. চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে বাহিনী প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেবে।
৫. হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
৬. ইরানের পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
৭. ইরানের ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে জাতিসংঘ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত।
৮. ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
৯. চূড়ান্ত চুক্তির পর উভয় দেশ বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে না।
১০. ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিতে সাময়িক ছাড় দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
১১. ইরানের জব্দ বা সীমাবদ্ধ সম্পদ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে এবং তা ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার থাকবে তেহরানের।
১২. চুক্তি বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য একটি যৌথ কাঠামো গঠন করা হবে।
১৩. নির্দিষ্ট কয়েকটি ধারা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তার পর বাকি ধারাগুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা হবে।
১৪. চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।
প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমাধান নেই; বরং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ইউরেনিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনায় নিষ্পত্তি করা হবে।
চুক্তিটি শুক্রবার স্বাক্ষরের কথা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।,
আরও পড়ুন:








