বুধবার

১৭ জুন, ২০২৬ ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

এবার মালয়েশিয়ায় এস আলমের বিলাসবহুল হোটেলে নজরদারি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬ ২২:৪৮

শেয়ার

এবার মালয়েশিয়ায় এস আলমের বিলাসবহুল হোটেলে নজরদারি
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের বিদেশে থাকা সম্পদের ওপর আন্তর্জাতিক তদন্তের পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে এখন মালয়েশিয়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক তদন্তে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট দুটি বিলাসবহুল হোটেলের তথ্য সামনে এসেছে।

কুয়ালালামপুরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা জালান সুলতান ইসমাইল ও জালান আমপাংয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এবং ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯১৯টি কক্ষবিশিষ্ট এই হোটেল দুটির মালিক ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডি, যা এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালে আইজিবি করপোরেশন বিএইচডির কাছ থেকে ৭৬৫ মিলিয়ন রিঙ্গিতের বিনিময়ে এই সম্পদ কেনা হয়েছিল। বর্তমানে বাজার বিশ্লেষকদের মতে এই হোটেলের বাজারমূল্য ৮৫০ থেকে ৯৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত হতে পারে।

এর আগে সাইপ্রাসে এস আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সিঙ্গাপুরে তার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সম্পদ নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং জার্সিতেও তার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অর্থপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশের একটি আদালত ইতিমধ্যে তার অনুপস্থিতিতে তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

এই তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং শ্রমবাজার সংক্রান্ত ইস্যুগুলো গুরুত্ব পাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। মালয়েশিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সফরের আলোচ্যসূচিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। ২০২৪ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ঋণনির্ভর অভিবাসনের অভিযোগে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাজার বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার এই খাত সংস্কারে আগের ১০২টি রিক্রুটিং এজেন্সির পরিবর্তে ৪৩২টি সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডির প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলাম আব্দুল নূরকে প্রত্যর্পণের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

যদিও মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এস আলমের হোটেলের বিষয়ে সরাসরি কোনো আইনি ব্যবস্থা বা সম্পত্তি জব্দের ঘোষণা দেয়নি, তবে আন্তর্জাতিক তদন্তের ধারাবাহিকতায় সম্পদগুলো বর্তমানে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সম্পদ পুনরুদ্ধারে তৎপরতা বাড়ালে মালয়েশিয়ায় থাকা এই হোটেলগুলো সরাসরি আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: দ্য এজ মালয়েশিয়া।



banner close
banner close