বুধবার

১০ জুন, ২০২৬ ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

স্পেন উপকূলে পাঁচ মাসে ১,৩১৭ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ২১:৪৫

শেয়ার

স্পেন উপকূলে পাঁচ মাসে ১,৩১৭ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত

ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আফ্রিকা থেকে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ১ হাজার ৩১৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার স্পেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ২৭টি নৌকা যাত্রীসহ নিখোঁজ হয়ে গেছে। আটলান্টিক মহাসাগর ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের পারাপার পথে অনিয়মিত অভিবাসন পর্যবেক্ষণকারী এই সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় মোট ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারান অথবা নিখোঁজ হন।

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে পোপ লিওর ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ সফরের ঠিক আগে। গত এক দশকে স্পেনের এই দ্বীপপুঞ্জে অনিয়মিত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে স্পেন সফরকালে পোপ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর আচরণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেন।

কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ রুটে প্রতি ১০০ জন যাত্রীর মধ্যে ২১ জন মারা গেছেন, যা ২০২৫ সালে ছিল ১৪ জন। সংস্থাটি স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে তল্লাশি ও উদ্ধার অঞ্চলের সীমানা নিয়ে বিরোধকে উদ্ধার কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, মৌরিতানিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পারাপার বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার করা হলে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে আটলান্টিক মহাসাগর জুড়ে আরও দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের মধ্যে সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। এ ছাড়া অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কো থেকে স্পেনের মূল ভূখণ্ডের মধ্যকার প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত জলপথ সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টাও করে থাকেন। ২০২৬ সালে জিব্রালটার প্রণালির পথে মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ৯৯-এ দাঁড়িয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বছরের শুরুতে গাম্বিয়া থেকে ছোট নৌকায় যাত্রার হার বেশি ছিল এবং এ কারণে বড় ধরনের নৌকাডুবির ঘটনাও বেশি ঘটেছে। পরবর্তীতে যাত্রার স্থান আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানান্তরিত হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস সংকটাপন্ন নৌকা শনাক্তকরণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং উদ্ধার সতর্কতায় সাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।



banner close
banner close