মঙ্গলবার

৯ জুন, ২০২৬ ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

অবসরের সিদ্ধান্ত বদলালেন পলাতক শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬ ১৬:১৩

আপডেট: ৯ জুন, ২০২৬ ১৬:১৪

শেয়ার

অবসরের সিদ্ধান্ত বদলালেন পলাতক শেখ হাসিনা
ছবি সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। মঙ্গলবার নয়াদিল্লি থেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি জনগণের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, গণতন্ত্র আক্রান্ত, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করার আইন করা হয়েছে, নেতা-কর্মীরা কারাগারে এবং সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

এর আগে তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। সেই বক্তব্য প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, জয়ের বক্তব্য তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি আগেও একাধিকবার নতুন নেতৃত্বের কথা বলেছেন এবং আওয়ামী লীগের বিগত দুটি কাউন্সিলেও তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত এবং তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের পরেই তিনি অবসরে যাবেন।

দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়। কাউন্সিলের মাধ্যমে কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে যোগ্যতা, ত্যাগ, সাহস ও আদর্শিক দৃঢ়তার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরলে নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে মেধাবী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে তিনি ফিরবেন এবং তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি শাসক, সামরিক শাসক বা খুনিরা যেমন আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি, বর্তমান সরকারও পারবে না।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে।



banner close
banner close