বুধবার

৩ জুন, ২০২৬ ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬ ১৩:৩৪

শেয়ার

কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
ছবি সংগৃহীত

ইরান বুধবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে।

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর এবং একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি যোগাযোগ টাওয়ার ও একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা করেছিল। এর জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরান বলেছে, এটি তাদের ঘোষিত কঠোর প্রতিক্রিয়ার অংশ।

অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে কাজ করেছে। কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ জোরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে সেনাবাহিনী বলেছে, এসব শব্দ আসলে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার সময় হয়েছে। এ ঘটনার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ও উদ্বেগ বেড়েছে।

পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর কুয়েতের সেনাবাহিনী দ্বিতীয়বারের মতো জনসাধারণকে সতর্কবার্তা দেয়। তারা নাগরিক ও বাসিন্দাদের কোনো ধ্বংসাবশেষ, ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো বা আকাশে ভূপাতিত হওয়া অজ্ঞাত বস্তু স্পর্শ না করার আহ্বান জানায়। সেনাবাহিনীর মতে, এসব বস্তু জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-ওতাইবি জনগণকে অনুরোধ করেন, সন্দেহজনক কোনো ধ্বংসাবশেষ বা বস্তু দেখতে পেলে দ্রুত ১১২ নম্বরে ফোন করে জরুরি সেবাকে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে।

তিনি আরো বলেন, গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নিতে হবে এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। এ সময় দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সবাইকে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।,

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী অঞ্চলে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একটি যোগাযোগ অ্যান্টেনা এবং একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। এর জবাব হিসেবেই এই হামলা করা হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী আরো বলেছে, তারা আগেই সতর্ক করেছিল যে কোনো আগ্রাসনের জবাব ভিন্ন ও কঠোর হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সতর্কবার্তার বাস্তবায়ন হিসেবেই বুধবার রাতের এই হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে একটি হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সেখানে ইরানের একটি সামরিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ছিল, যেখান থেকে ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হতো। এই কেন্দ্রটিকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এর আগে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছোড়া একাধিক ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছিল। এর পরই কেশম দ্বীপে ওই হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে ইরান যে দাবি করেছে, তারা অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সফল হামলা চালিয়েছে, সেই দাবিও পরে নাকচ করে দেয় সেন্টকম। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরানের এই দাবি সঠিক নয়। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



banner close
banner close