সোমবার

১ জুন, ২০২৬ ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬ ২২:২৬

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা স্থগিত
ছবি সংগৃহীত

ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং লেবানন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। সোমবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসন এবং সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছিল, তা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

ইরানের এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আগস্ট ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের বেশি পৌঁছে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের মূল্যও প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯২ ডলারের ওপরে ওঠে।,

তাসনিমের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক তৎপরতা এবং যুদ্ধবিরতি শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তেহরানের মতে, লেবাননে হামলা বন্ধ হওয়া যেকোনো সমঝোতার অন্যতম মৌলিক শর্ত ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা বার্তা আদান-প্রদান ও খসড়া চুক্তি সংক্রান্ত যোগাযোগও স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রে লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগের জন্য লেবাননে সংঘর্ষ বন্ধ হওয়া জরুরি।,

তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিয়ে যাবে ইরান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লেবানন ও আঞ্চলিক প্রতিরোধ আন্দোলনের পাশে থাকতে তেহরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

এদিকে একই দিনে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর আগে ইসরাইলি বাহিনী ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে। পরবর্তীতে নেতানিয়াহু জানান, হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সামরিক অভিযান আরো জোরদার ও সম্প্রসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহকে ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে তেহরান ধারাবাহিকভাবে কড়া অবস্থান বজায় রেখে আসছে।,



banner close
banner close