সোমবার

১ জুন, ২০২৬ ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে এবার রাজপথে বিক্ষোভে নামছে ‘ককরোচ পার্টি’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬ ১৯:১৮

শেয়ার

মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে এবার রাজপথে বিক্ষোভে নামছে ‘ককরোচ পার্টি’
ছবি সংগৃহীত

ভারতের তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ইউএস নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে কোটি কোটি অনুসারী পাওয়া এ সংগঠনটি ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার ফলাফলে ভুলের মতো ইস্যুতে ক্ষুব্ধ তরুণদের সমর্থন পাচ্ছে দলটি।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিৎ দিপকে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আমি ভারতে ফিরছি।’ তিনি তরুণদের দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।’

দিপকের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থী একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিজেপি-র এই ত্বরিত উত্থান, মোদির ১২ বছরের শাসনামলে এটিই সবচেয়ে বড় অনলাইনভিত্তিক ভিন্নমতের আন্দোলনগুলোর একটি। সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে জয় পেলেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জনঅসন্তোষ বাড়ছে।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি এসেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্য থেকে। তিনি কিছু বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি বলেন, তার মন্তব্যটি ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারীদের’ উদ্দেশে ছিল, তরুণদের অপমান করার জন্য নয়। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে দলটির অনুসারী সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখের বেশি।

গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা দিপকে জানান, ভারতে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এ আশঙ্কায় তার পরিবার ও বন্ধুরা উদ্বিগ্ন। তবে তিনি বলেন, ‘আর কতদিন ভয় নিয়ে বাঁচব?’

এদিকে ভারত সরকার সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া দিপকের অভিযোগ, অজ্ঞাত হ্যাকাররা তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।,

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছেন, সিজেপি পাকিস্তান ও ‘ভারতবিরোধী গোষ্ঠী’র সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।

সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র ডাক বিভাগের বদলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর মাধ্যমে পরিবহনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

তরুণদের চাকরি সংকট নিয়েও সরব হয়েছে সিজেপি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে গত বছর বেকারত্বের হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ, যা দেশের সামগ্রিক বেকারত্ব হারের তিন গুণেরও বেশি।,



banner close
banner close