শুক্রবার

২৯ মে, ২০২৬ ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পাকিস্তান বিচ্ছিন্নকরণ কৌশলে বিপাকে ভারত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৬ ১৯:৫৭

শেয়ার

পাকিস্তান বিচ্ছিন্নকরণ কৌশলে বিপাকে ভারত
ছবি সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে প্রায় এক দশক পরে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে।

কূটনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন করেছে বলেও জানা গেছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ভারতের পাকিস্তানবিরোধী কূটনৈতিক কৌশল অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রচারের ক্ষেত্রেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা টানাপড়েনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে চীনের সঙ্গে গভীর প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পাকিস্তানের কূটনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক সম্প্রতি আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রেখে আসছে। তবে এই নীতির একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে কার্যকর সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ ছাড়া এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।



banner close
banner close