পাকিস্তান সীমান্তঘেঁষা এলাকায় থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। বুধবার (২৭ মে) দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, পাকিস্তান সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা অনুমোদনহীন ভবন ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন শূন্য থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ।
এতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সব অননুমোদিত স্থাপনা চিহ্নিত করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের দাবি, পাকিস্তান সীমান্ত ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, পাশাপাশি সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঘটনা বেড়েছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সীমান্ত অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন অমিত শাহ। বিশেষ করে অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, ভূমি দখল এবং আন্তসীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে অভিযান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।,
তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভারতের এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। পাকিস্তান সীমান্তঘেঁষা রাজস্থান সফরের সময় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক গত বছর থেকেই তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে চার দিনের সংঘাত শুরু হয়েছিল। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন হিন্দু পর্যটক।
ভারত ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল। তবে ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করে।
এরপর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক পদক্ষেপ, আকাশ হামলা, ড্রোন হামলা এবং ভারী মর্টার গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। এটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলের সীমান্তও অন্তর্ভুক্ত।,
দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগ তোলে। তবে উভয় পক্ষই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরও পড়ুন:








