পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার চালু করার ঘোষণার পর উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত চেকপয়েন্টে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৬০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে হাকিমপুর থানার বিঠারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ চেকপয়েন্টে এই ভিড় লক্ষ করা যায়।
হোল্ডিং সেন্টার চালু ও প্রথম আটক
গত রোববার (২৪ মে) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য রাজ্যে হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দেন। ঘোষণার পরদিন সোমবার (২৫ মে) রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই সেন্টারগুলো চালু হয়। প্রথম দিনেই ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হোল্ডিং সেন্টারে আটক করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে পুশব্যাক কার্যকর করা হবে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
সীমান্তে আসা একাধিক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন। এক ব্যক্তি জানান, সরকার আর রাখবে না, তাই দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কেউ কেউ জানিয়েছেন, দোকানের কর্মচারী হিসেবে কিংবা গৃহপরিচারিকা হিসেবে তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতেন। তাদের অনেকেই দালালের মাধ্যমে কাঁটাতার পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
প্রেক্ষাপট ও পটভূমি
এর আগে পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া (এসআইআর) শুরু হলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুরূপ ভিড় দেখা গিয়েছিল। তখনও অনেক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী দেশে ফিরে যান। তবে একটি অংশ এরপরও ভারতে থেকে যায়। সেই অংশের মানুষেরাই এবারের নতুন পদক্ষেপের পর পুনরায় সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত, তালিকাভুক্ত ও বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০ দিনের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি
সরকারের নতুন ঘোষণায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে ভিড় বাড়ছে। বিএসএফ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে বিএসএফ বা জেলা প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








