সোমবার

২৫ মে, ২০২৬ ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টার চালু, প্রথম দিনেই ১২ বাংলাদেশি আটক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬ ২১:৫০

শেয়ার

পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টার চালু, প্রথম দিনেই ১২ বাংলাদেশি আটক
ছবি সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের দুই সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের আটক রাখার জন্য হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। নির্দেশনা জারির মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শুরু হয় এবং প্রথম দিনেই মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট বারোজন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

নির্দেশনার প্রেক্ষাপট

গত ২৩ মে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ফরেনার্স ব্রাঞ্চ থেকে রাজ্যের সকল জেলা প্রশাসকের কাছে একটি জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের দপ্তর-সংলগ্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। জেল থেকে সাজার মেয়াদ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিক, যারা নিজ দেশে প্রত্যর্পণের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদেরও এই কেন্দ্রগুলোতে রাখা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগ এই প্রথম।

আটকের বিবরণ

পুলিশ সূত্র জানায়, মালদা জেলার গাজোল মহাকুমার পান্ডুয়া এলাকা থেকে নয়জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন নারী ও ছয়জন শিশু রয়েছে। আটকদের বাড়ি বাংলাদেশের রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায়। তারা দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পান্ডুয়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।

মুর্শিদাবাদ থেকে আটক করা হয়েছে আরও তিনজনকে। তারা হলেন মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ রুবেল ও শরিফুল ইসলাম। তাদের কাছে ভারতে বসবাসের কোনো বৈধ নথি পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বাংলাদেশি পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও যাচাই করা হচ্ছে।

সরকারের নীতিগত অবস্থান

রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এসেই অনুপ্রবেশ মোকাবেলায় ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট-এই তিন স্তরের নীতি ঘোষণা করেছেন। প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, চিহ্নিত অনুপ্রবেশকারীদের হোল্ডিং সেন্টারে রেখে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা জারি করেছিল। কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সেই নির্দেশনা কার্যকর করেনি।

পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্য

উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, যারা ভারতীয় নাগরিক নন, তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গকে রোহিঙ্গা ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের করিডোর হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই পারে, তবে এই অভিযান পরিচালনায় সাধারণ ভারতীয় নাগরিকরা যাতে হয়রানি বা দমন-পীড়নের শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।

চিহ্নিত অনুপ্রবেশকারীদের আটক ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে।



banner close
banner close