শনিবার

২৩ মে, ২০২৬ ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ইবোলার ভ্যাকসিন তৈরি করছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা, প্রস্তুত হতে পারে কয়েক মাসের মধ্যেই

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬ ২১:১৭

শেয়ার

ইবোলার ভ্যাকসিন তৈরি করছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা, প্রস্তুত হতে পারে কয়েক মাসের মধ্যেই
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা ইবোলা ভাইরাসের নতুন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করছেন যা কয়েক মাসের মধ্যেই মানবদেহে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। ভ্যাকসিনটি তৈরিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোভিড মহামারির সময় উদ্ভাবন করা হয়েছিল।

ভ্যাকসিন তৈরির এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, পশ্চিম আফ্রিকায় সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের পরই নতুন ভ্যাকসিনটি দ্রুততার সঙ্গে তৈরির জন্য কাজ করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে টিকাটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যবহারের জন্য একেবারে প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। তবে, এটি কার্যকর হবে কি না— তা জানতে প্রাণীদের ওপর গবেষণা ও মানুষের ওপর পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।

প্রাদুর্ভাবটি হঠাৎ যদি তীব্র আকার ধারণ করে এবং পরীক্ষামূলক টিকার প্রয়োজন হয়, সেই আশঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

তথ্য বলছে, এই ভ্যাকসিনটি আগের তুলনায় দ্রুত তৈরি করা সম্ভব। কারণ এতে ব্যবহার করা হয়েছে এমন একটি উপাদান, যা খুব অল্প সময়ে নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানিয়ে যায়। প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হলে চলতি বছরের শেষের দিকেই বড় আকারের ট্রায়াল শুরু করা হতে পারে।

মূলত, ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাস যা রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়। দ্রুত কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে।

ভাইরাসটির ছয়টি প্রজাতি রয়েছে। তবে, এদের মধ্যে মাত্র তিনটি মানুষের মধ্যে বড় আকারে প্রাদুর্ভাব ঘটায়। এর একটি হলো বুন্দিবুগিও। ২০০৭ সালে উগান্ডায় এবং ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে দুই দফায় বড় পরিসরে এর প্রাদুর্ভাব ঘটে। সবশেষ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এর দেখা মেলেনি। ইবোলার সাধারণ প্রজাতি জায়ারের জন্য টিকা থাকলেও, এখন পর্যন্ত বুন্দিবুগিও’র জন্য কোনো টিকা নেই।

ইতোমধ্যেই গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাবে ৭৫০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোভিড মহামারির সময়ের মতো ইবোলার টিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে না। এর পরিবর্তে, এগুলো রিং ভ্যাকসিনেশন নামক একটি পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হতে পারে। এক্ষেত্রে যাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাদেরই টিকা দেয়া হয়।



banner close
banner close