মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে ভারতের শ্রমবাজারে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ১৩ লাখেরও বেশি ভারতীয় প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়ায় বেকারত্বের হার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত ১৩ লাখের বেশি ভারতীয় নাগরিক উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। বিদেশে কর্মরত প্রায় ২ কোটি ভারতীয়র মধ্যে প্রায় ৯০ লাখ কর্মী উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত ছিলেন। সংঘাতের কারণে দেশে ফেরা এই বিশাল কর্মীগোষ্ঠী আর ফিরে যেতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
দেশের শিল্পখাতেও পড়েছে সংকটের ছায়া। উত্তর প্রদেশের শিল্পনগরী কানপুরের চামড়া শিল্প কারখানাগুলোতে লোকবল কমানো হয়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। জ্বালানি, লজিস্টিকস ও শিপিং ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ আয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ব্যবসার এই মন্দা পরিস্থিতিতে নতুন লোক নিয়োগ সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।
কাউন্সিল ফর লেদার এক্সপোর্টসের ভাইস চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ভারতের ৬ বিলিয়ন ডলারের চামড়া রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে কানপুর থেকে এবং এই খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশটির বেকারত্বের হার ফেব্রুয়ারিতে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহরাঞ্চলের তরুণদের মধ্যে এই হার আরও উদ্বেগজনক, প্রায় ১৪ শতাংশ। ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৪০ কোটি হওয়ায় এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
রেমিট্যান্স খাতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী ভারতীয়দের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১০২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৯২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বেশি। তবে চলতি বছর প্রবাসী শ্রমিকদের বড় একটি অংশ ফিরে আসায় রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের মোট কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশের বেশি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং কর্মজীবী বা কাজ সন্ধানকারী মানুষের সংখ্যা ৬২ কোটিরও বেশি। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ইরান বাদে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা গত বছর ছিল ৪ শতাংশ। এই পরিস্থিতি ভারতের শ্রমবাজারের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন:








