গাজাগামী ত্রাণবাহী জাহাজ বহরের (ফ্লোটিলা) আটককৃত সমাজকর্মীদের হাত বেঁধে মাটিতে মাথা ঠেকাতে বাধ্য করার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র কূটনৈতিক ঝড় উঠেছে।
ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির নিজেই এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র ইসরায়েলি রক্ষীদের পাহারায় ফ্লোটিলা অ্যাক্টিভিস্টদের চরম অপমানজনক অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক দেশের সরকার ইসরায়েলের এই আচরণকে 'মানবাধিকার ও মানবমর্যাদার চরম লঙ্ঘন' বলে আখ্যায়িত করেছে এবং এর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে নিজ নিজ দেশে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের তলব করেছে।
যেসব দেশ ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে
অস্ট্রেলিয়া: দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই "অবমাননাকর আচরণের" তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দেশটির ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইতালি: প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনাকে "অনভিপ্রেত ও গ্রহণযোগ্য নয়" বলে উল্লেখ করেছেন এবং আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন। আটক হওয়া ইতালীয় নাগরিকদের প্রতি এমন অসম্মানের কারণে ইতালি অবিলম্বে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
ফ্রান্স: ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "আমাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ এবং এই ঘটনার ব্যাখ্যা চাইতে ফ্রান্সে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করার অনুরোধ জানিয়েছি।"
নেদারল্যান্ডস: ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেন এক্স-এ জানিয়েছেন যে তাদের দেশে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন ত্রাণকর্মীদের প্রতি এই আচরণকে "মর্মান্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য" বলে অভিহিত করেছেন।
নিউজিল্যান্ড: গাজাগামী ফ্লোটিলার আটক কর্মীদের প্রতি আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের জন্য ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স।
কানাডা ও বেলজিয়াম: এই দুই দেশও ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের তলব করে তাদের আনুষ্ঠানিক ও তীব্র প্রতিবাদ জানানোর কথা নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রদূত তলব করা দেশগুলোর পাশাপাশি স্পেন, পোল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, সাইপ্রাস, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং তুরস্কও ইসরায়েলি মন্ত্রীর এই হীন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।,
আরও পড়ুন:








