মঙ্গলবার

১৯ মে, ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

আঞ্চলিক অস্থিরতা-উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ চীনের সামরিক মহড়া: তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬ ১৬:৪৬

শেয়ার

আঞ্চলিক অস্থিরতা-উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ চীনের সামরিক মহড়া: তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে চীন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বেইজিংয়ের এসব কর্মকাণ্ডই সবচেয়ে বড় হুমকি বলে অভিযোগ করেছে তাইপে। একই সময়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীনের নৌ-বাহিনী।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার (২০ মে) তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। এর আগে, মঙ্গলবার রাজধানী তাইপেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই বলেন, তাইওয়ান প্রণালি, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, দক্ষিণ চীন সাগর এমনকি জাপানের আশপাশেও নিয়মিত সামরিক মহড়া চালাচ্ছে চীন। এতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পুরো অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়ছে। এছাড়া চীনের এসব সামরিক তৎপরতাই এখন আঞ্চলিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে বড় উৎস।

গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে চীন। সাম্প্রতিক সময়ে, দ্বীপটিকে ঘিরে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে বেইজিং। যদিও প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বারবার আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে তাকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' আখ্যা দিয়ে সেই প্রস্তাব সরাসরি 'প্রত্যাখ্যান' করেছে চীন।

এদিকে মঙ্গলবার (১৯ মে) চীনের নৌ-বাহিনী জানায়, ‘লিয়াওনিং’ নেতৃত্বাধীন একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের জলসীমায় পাঠানো হয়েছে। সেখানে সরাসরি গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন সামরিক মহড়া চালানো হবে।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) দাবি, এটি তাদের বার্ষিক পরিকল্পনার অংশ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

অন্যদিকে, তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র। একই সঙ্গে তিনি সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানান।

এদিকে, বুধবার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সেখানে তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি ও জাতীয় ভিশন তুলে ধরবেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

তবে শুধু চীনের চাপই নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে। পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ সরকারের বেশ কিছু পরিকল্পনা বাধার মুখে পড়ছে।



banner close
banner close