শুক্রবার

১৫ মে, ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বাবরি মসজিদের ইস্যু তুলেছিলাম বলে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে: হুমায়ুন কবির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬ ১০:৪৯

শেয়ার

বাবরি মসজিদের ইস্যু তুলেছিলাম বলে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে: হুমায়ুন কবির
ছবি সংগৃহীত

বাবরি মসজিদের ইস্যু তুলেছিলাম বলে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শপথ অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন সরল কিন্তু বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) বিধায়ক তথা বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির।

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বাবরি মসজিদ ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ডেড এই বিধায়ক রেজিনগর ও নওদা দুটি বিধানসভার আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নওদা আসন থেকে বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন তিনি। ছেড়ে দেন রেজিনগর আসনটি।

শপথ অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিধানসভার লবিতে দাঁড়িয়ে এই বিধায়ক বলেন, বাবরি মসজিদ রাম মন্দির করে বিজেপি ভারতবর্ষের ক্ষমতায় এসেছে। বাবরি মসজিদের ইস্যু তুলেছিলাম বলে বাবরি মসজিদের বিরোধিতা করে ২০৭ এ পৌঁছেছি।

লোকসভার টাইমে এই বাবরি মসজিদ তৃণমূলকে ফিনিশ করবে। বিজেপিকে মাইলেজ দেবে। আর বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে আমি কতটা মাইলেজ পাবো, দেখার জন্য অপেক্ষা করুন না।

তিনি আরও বলেন, লোকসভায় আমার দল একাই লড়াই করবে। আমি কোন পার্টির সাথে নেই। এসময় তার পূর্বতন দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রীতিমত বন্দনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে বর্তমান যিনি মুখ্যমন্ত্রী তার কাছে ১৯৫৬ ভোটে হেরেছিলেন। তারপরও ওনাদের ঔদ্ধত্য কমেনি। তারা মুখে মা মাটি মানুষের নেত্রী আর বাস্তবে কোন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন না। ক্যাবিনেট এর সদস্যদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলতেন না।,

তিনি বলেন, তৃণমূল তো হেরে ফিনিশ। তাদের বিরুদ্ধে আর কে থাকবে। ছয় মাস অপেক্ষা করুন তৃণমূল বলে কি বস্তু কিছুই থাকবে না। আগামী নির্বাচন গুলো দেখবেন তৃণমূলের টিকিট নিয়ে কেউ লড়ার নাম করবে না।

২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলেডাঙ্গায় বাবরের নামে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে বিতর্কে এসেছিলেন এই হুমায়ুন কবীর। তিনি তখন ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। এরপরই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তৃণমূল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বাধা, আপত্তি, বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবরি মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করেন হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (এজেইউপি) নামে একটি দলও গঠন করেন তিনি।

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভার নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রার্থীও দেয় তারা। তবে একমাত্র হুমায়ুন কবীরই দলের প্রার্থী হিসেবে রেজিনগর ও নওদা এই দুই আসন থেকে জয়ী হন।

যদিও বাবরি মসজিদ নির্মাণ, নতুন রাজনৈতিক দল গঠন ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে হুমায়ূনকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ তাকে বিজেপির বি-টিম বলে কটাক্ষ করেছিল, কারো অভিযোগ ছিল তিনি তৃণমূলের বি-টিম হয়ে কাজ করছে।

এমন এক আবহে নির্বাচন শেষে বিধানসভায় গণমাধ্যমের সামনে হুমায়ুনের এই মন্তব্য।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের জন্য বাংলাদেশের মুসলমান অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন হারোয়া আসনের নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল মতিন মুহাম্মদ। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন মতিন।,



banner close
banner close