বুধবার

১৩ মে, ২০২৬ ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬ ২২:৩২

শেয়ার

পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা
ছবি সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় নামাজ আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির একজন নেতা। তবে রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী আদেশে এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার, ১১ মে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা প্রথম বৈঠকে মিলিত হয়। ওই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ ও জেলাশাসকদের উদ্দেশে একাধিক নির্বাহী আদেশ প্রদান করেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকের পরদিন ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপি নেতা ও ব্যারাকপুরের সাবেক সংসদ সদস্য অর্জুন সিং দাবি করেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাস্তায় নামাজ আদায় বরদাস্ত করা হবে না, তবে মসজিদে নামাজ পড়ায় কোনো আপত্তি নেই। একই সাক্ষাৎকারে তিনি গরু পাচার, চোরা কারবার এবং পুলিশের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এই বিবৃতি একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন মত প্রকাশিত হতে থাকে।

তবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নির্বাহী আদেশ দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু সেই আদেশে নামাজ আদায় বন্ধ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, এ ধরনের নির্বাহী আদেশ সাধারণত মৌখিকভাবে দেওয়া হয় এবং এর লিখিত কোনো কপি প্রকাশিত হয় না। এগুলি মূলত প্রশাসনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার রূপরেখা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়ে থাকে।

ভারতের সংবিধানের ৭৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভা এ ধরনের আদেশ জারি করতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিজেপির বিভিন্ন নেতা এর আগেও একাধিকবার রাস্তা অবরোধ করে নামাজ আদায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখেছেন। গত বছর কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ আয়োজনের অনুমতি নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সেনাবাহিনীর অধীনস্থ ওই রাস্তায় প্রথমে অনুমতি না দিলেও পরবর্তী সময়ে অনুমতি প্রদান করা হয়। তখনও বিজেপির কয়েকজন নেতা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।

অল ইন্ডিয়া হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আবদুল সেলিম বলেছেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া কিছু নির্দেশিকা, যেমন কাটা মাংস ঢেকে বিক্রি করা ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নির্দেশ সমর্থনযোগ্য।



banner close
banner close