সোমবার

১১ মে, ২০২৬ ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

আমিরাতে পাকিস্তানি শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬ ২০:৩৪

শেয়ার

আমিরাতে পাকিস্তানি শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ
ছবি সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত পাকিস্তানি শ্রমিকদের একটি অংশকে ফেরত পাঠানো এবং নতুন ভিসা ও ভিসা নবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং তা নিরসনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতার পর থেকেই আমিরাতে পাকিস্তানি নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে পাকিস্তানি শিয়া সম্প্রদায়ের কিছু কর্মীকে আটক ও ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠে এসেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে আমিরাতের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত অন্তত ২০ জন পাকিস্তানি শিয়া কর্মীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে তাদের আটক করা হয় এবং পরে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। পাকিস্তানের শিয়া ধর্মীয় নেতাদের দাবি, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে কয়েক হাজার শিয়া কর্মীকে আমিরাত ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।

তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে গণহারে বিতাড়নের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, যারা আইন ভঙ্গ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়কে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে আমিরাত-ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক নাদিম কোটেইচ বলেন, আঞ্চলিক কূটনৈতিক ইস্যুতে পর্যাপ্ত সমন্বয় ছাড়া পাকিস্তানের মধ্যস্থতা উদ্যোগ আবুধাবিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আমিরাতের কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানি কর্মীদের ভিসা নবায়ন স্থগিত রাখা হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে নতুন ভিসা ইস্যুও বন্ধ রয়েছে। কয়েকজন নিয়োগদাতা দাবি করেছেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সরাসরি কিছু কর্মীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আবুধাবিভিত্তিক আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমির সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি বলেন, ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে আমিরাত অসন্তুষ্ট। একই সঙ্গে পাকিস্তানও আমিরাতের প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান কূটনৈতিক চাপে পড়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিও এ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, পাকিস্তান একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এ অবস্থান আমিরাত ইতিবাচকভাবে দেখছে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে ২০ লাখের বেশি পাকিস্তানি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। তারা গত বছর প্রায় ৮০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শ্রমবাজারে কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সংকট পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে, বিতাড়িত কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের বাসিন্দা হায়দার আলী বঙ্গশ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।



banner close
banner close