শুক্রবার

৮ মে, ২০২৬ ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভারতকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আখ্যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬ ২২:২৮

শেয়ার

ভারতকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আখ্যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর
ছবি সংগৃহীত

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে সরাসরি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বিশ্বে ভারতের কথা কেউ বিশ্বাস করে না।

মারকা-ই-হকের এক বছর পূর্তি

মারকা-ই-হক বা সত্যের যুদ্ধ নামে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পাকিস্তানের অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুসের পর ওই বছরের ১০ মে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরীর পাশে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান (প্রকল্প) এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী।

পাকিস্তানের দাবি: দশটি কৌশলগত পরিণতি

আইএসপিআর মহাপরিচালক সংঘাতের দশটি কৌশলগত পরিণতি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রথম পরিণতি হলো পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের ভারতীয় বয়ান সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

দ্বিতীয় পরিণতি হিসেবে তিনি দাবি করেন, এই সংঘাতের মাধ্যমে পাকিস্তান আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রধান স্থিতিশীলতাকারী শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

তৃতীয় পরিণতি বিশ্লেষণে তিনি ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, ভারতের সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকরণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। পঞ্চম পরিণতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যযুদ্ধের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে এবং তার প্রকৃত চরিত্র বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।

কাশ্মীর ও সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গ

কাশ্মীর প্রসঙ্গে আইএসপিআর প্রধান বলেন, কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত কাশ্মীরে জনমিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতায় ভারতের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে এবং আফগানিস্তানকে এ লক্ষ্যে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মারকা-ই-হকের পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত অক্টোবরে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনার দাবিও করেন তিনি।

ভারতের অবস্থান

ভারত পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে আসছে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে। তবে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত উল্লিখিত সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, উপরিউক্ত বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণরূপে পাকিস্তানের সরকারি সামরিক সূত্রের এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নয়।



banner close
banner close