বৃহস্পতিবার

৭ মে, ২০২৬ ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

বাংলাদেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সম্পৃক্ততা অস্বীকার ভারতের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬ ০৯:১৫

শেয়ার

বাংলাদেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সম্পৃক্ততা অস্বীকার ভারতের
ছবি সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে’ দিল্লি কোনো ধরনের সমর্থন বা সহযোগিতা করেনি। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘কোনো ব্যক্তির ইস্যু’ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে না।

গত সোমবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পানিবণ্টন, সীমান্ত সমস্যা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং সার্ক-বিমসটেকসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের সময় ভারতের সমর্থন এবং বিতর্কিত নির্বাচনে দিল্লির ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, “অতীতে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। বাংলাদেশে যখন যে সরকার থাকবে, তাদের সঙ্গেই আমরা কাজ করব। তবে এটা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভারত কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি।”

দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক কি না জানতে চাইলে তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ না করে বলেন, “কোনো ব্যক্তির ইস্যু দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে বলে আমি মনে করি না।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে এবং এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দুই দেশের জনগণ।

বিক্রম মিশ্রি জানান, বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের ৪০টিরও বেশি দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্থবির হয়ে পড়া এসব কাঠামো পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার মধ্যেও সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘সাধারণ বোঝাপড়া’ তৈরি হয়েছে।

তবে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া চুক্তিটি কার্যকরভাবে কাজ করেছে এবং বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমেই বিষয়টি সমাধান হবে। তিনি জানান, গঙ্গা ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ে যৌথ নদী কমিশন ও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতা অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, “আমি আগে থেকে কোনো অনুমান করতে চাই না,” তবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে সার্ক-কে কার্যকর করতে ভারত চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সন্ত্রাসবাদের কারণে তা স্থবির হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে বিমসটেক নিয়ে ভারত আশাবাদী বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখবে, তা বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ যেন ভারত-বাংলাদেশের ইতিবাচক উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে প্রত্যাশা ভারতের রয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিএসএফের ‘সাপ ও কুমির ছেড়ে দেওয়া’ সংক্রান্ত খবরকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বিক্রম মিশ্রি বলেন, এটি ভারত সরকারের অবস্থানের প্রতিফলন নয়।

ভারতের দেওয়া ঋণচুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী ভারত কাজ করতে প্রস্তুত। নতুন সরকার নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করলে তা নিয়ে আলোচনায় বসতে ভারত আগ্রহী।

বাংলাদেশিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও দ্রুত সমাধানে ভারত কাজ করছে বলে জানান।

রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন পরিশোধিত তেল, আর ভারত বিদ্যমান সহযোগিতার আওতায় সেই সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগের কর্মকর্তা বি শ্যাম উপস্থিত ছিলেন।



banner close
banner close