বৃহস্পতিবার

৭ মে, ২০২৬ ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সহকারীকে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬ ০৭:৪৩

আপডেট: ৭ মে, ২০২৬ ০৭:৪৬

শেয়ার

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সহকারীকে গুলি করে হত্যা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম চন্দ্রনাথ রাথ। কলকাতার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রাম বিধানসভা এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব নামের আরেক ব্যক্তি আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কিলিং মিশনে চারটি মোটরসাইকেলে মোট আট জন দুর্বৃত্ত ছিল। চন্দ্রনাথের গাড়িটি দোহাড়িয়া লেনের ভেতরে ঢোকার সময় উল্টো দিক থেকে এসে দুর্বৃত্তরা এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বলে অভিযোগ। মোটরসাইকেল আরোহীদের মাথায় হেলমেট ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে দুটি গুলি লেগেছে। সিপিআর দিয়েও বাঁচানো যায়নি। মৃত অবস্থাতেই তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চন্দ্রনাথের সঙ্গী বুদ্ধদেবের তিনটি গুলি লেগেছে। বুকের ডান দিকে, একটি পেটে ও একটি ডান হাতে। তার জ্ঞান ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা করে কলকাতার হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রথ অতীতে সরকারি চাকরি করতেন। তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও চন্দ্রনাথ দীর্ঘদিন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় বসবাস করতেন।

বিজেপির একটি সূত্র বলছে, ভবানীপুরে শুভেন্দু ভোটে লড়ার সময় যে দলটি তার হয়ে কাজ করেছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন চন্দ্রনাথ। বুদ্ধদেবও ওই দলেরই সদস্য ছিলেন।,

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মধ্যমগ্রাম আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রথীন ঘোষ ২ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এ আসনে বিজেপির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল।

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ড এমন একদিনে ঘটল, যেদিন বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিজেপি সমর্থক সেজে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গত ৪ মে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মঙ্গলবার (৫ মে) রাত পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন চারজন রাজনৈতিক কর্মী। এদের মধ্যে দুজন বিজেপি কর্মী ও দুজন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। ইতোমধ্যেই এসব হত্যার ঘটনায় একাধিক সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে কয়েকজনকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন অভিযুক্তরা। এ ছাড়া সহিংসতা থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রাজ্য পুলিশের দুজন সদস্য ও তিনজন বিএসএফ জওয়ান।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় প্রথম হত্যার অভিযোগ ওঠে সোমবার, কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলা হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে। সেখানকার এক বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

বিজেপি সূত্রে জানানো হয়, নিহতের নাম যাদব বর। বয়স ৪৮ বছর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাকে তৃণমূলের সমর্থকরা আটক করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুন করে।

বাংলাদেশের লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গে টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে ধসিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৬টি আসন জিতে নিয়ে প্রথমবারের মত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে তারা। অন্যদিকে মাত্র ৮১টি আসনে জিতে ভরাডুবির মুখে পড়তে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে।,



banner close
banner close