পশ্বিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার নিয়ে এসে একাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজয়ী দল বিজেপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে স্থানীয় মাংসের দোকান, পরাজিত দল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় থাকা অফিস এবং মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে লেনিনের মূর্তি ভাঙচুর করার মতো পরিস্থিতি দেখা গেছে।
বুধবার (৬ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় হঠাৎ একটি বুলডোজার এসে হাজির হয় বিজেপির সমর্থকরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বুলডোজারের ওপর বিজেপির পতাকা লাগিয়ে একদল সমর্থক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে এগোতে থাকে। বিজয় উৎসবের অজুহাতে তারা এলাকার বেশ কিছু মাংসের দোকান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নিউ মার্কেট ইউনিয়ন অফিস পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, বুলডোজার যখন দোকানগুলো ভাঙছে, তখন পাশে নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে আছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (সিএপিএফ) ও পুলিশ। এই ঘটনায় ব্রিটিশ আমলের এই বাজারে কয়েক প্রজন্ম ধরে ব্যবসা করে আসা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দোকানপাট বন্ধ করে প্রাণভয়ে পালিয়ে যান।,
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে পুলিশের অনুমতি নিয়ে বিজয় উদযাপনের নামে মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজার আনা হয়েছে। এই হলো বিজেপির আসল রূপ।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভোটের আগে যারা ‘ভরসা’ দেওয়ার কথা বলেছিল, ভোটের পর তারা ‘বুলডোজার’ নিয়ে হাজির হয়েছে।
একই দিনে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে কয়েক দশকের পুরনো লেনিন মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সাংসদ মহুয়া মৈত্র দাবি করেছেন, মূর্তিটি ভেঙে সেখানে শিবাজীর মূর্তি বসানোর ঘোষণা দিয়েছে বিজেপি কর্মীরা।
যদিও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের এমন উগ্র আচরণ নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থানে। তিনি এক বার্তায় দলীয় কর্মীদের কোনো ধরনের ভাঙচুর বা ক্ষমতার অপব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ সহিংসতা করলে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
বিজেপি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটানোর পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল, অগ্নিসংযোগ এবং কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বহু জায়গায়।,
আরও পড়ুন:








