ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হাওড়ার উদয়পুর ও রাজারহাট নিউ টাউনে দুই বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, বীরভূমের নানুর ও কলকাতার বেলেঘাটায় বিজেপি কর্মীদের হাতে তাদের দুই কর্মী নিহত হয়েছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও দায় স্বীকার করেনি।
রাজ্যের বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদিয়া, বাঁকুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। একাধিক স্থানে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আসানসোল শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার রাতে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের একটি দোকানেও। একই সঙ্গে রূপনারায়ণপুর, কুলটি, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া ও বার্নপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও কার্যালয় গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কেরা দাবি করেছেন, তাদের কোনো কর্মী সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয়। বরং কিছু ‘দুষ্কৃতকারী’ বিজেপির নাম ব্যবহার করে অশান্তি সৃষ্টি করছে।,
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি সহিংসতা বা ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজ্যে সরকার গঠন প্রক্রিয়া ঘিরে বিজেপির তৎপরতা চলমান রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন ও বিধানসভায় পরিষদীয় দলনেতা নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অমিত শাহকে। তার সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহনচরণ মাঝি।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:








