ভারতের পশ্চিমবঙ্গে টানা তিন বার ক্ষমতায় থাকার পর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের পর পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, ‘আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। আমি পদত্যাগপত্রও জমা দেব না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনে অন্তত ১০০টি আসন ‘চুরি’ হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মমতার কথায়, ‘গণতন্ত্র এভাবে কাজ করে না। যখন বিচারব্যবস্থা কার্যকর থাকে না, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট হয় এবং সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়, তখন তা বিশ্বের কাছে ভুল বার্তা দেয়।’
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলে তিনি ‘নোংরা খেলা’র অভিযোগ করেন।
তার মতে, এবারের নির্বাচনে আসল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল নির্বাচন কমিশন, বিজেপি নয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও ‘সরাসরি হস্তক্ষেপ’ করার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘এভাবেই তারা মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং এখন পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচন চুরি করেছে।’
৭১ বছর বয়সী ওই নেত্রী আরও অভিযোগ করেন, একটি ভোটকেন্দ্রে তিনি শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন।,
তার দাবি, ‘আমার পেটে ও পিঠে লাথি মারা হয়েছে। সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আমাকে গণনাকেন্দ্র থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। একজন নারী হিসেবে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি এভাবে আচরণ করতে পারে, তাহলে বলার কিছু থাকে না। আমি আগে কেন্দ্রের বিভিন্ন বিজেপি সরকার দেখেছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি কখনও দেখিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি তিনি।
তবে জানিয়েছেন, ইন্ডিয়া ব্লকের একাধিক নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস একটি অনুসন্ধানী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাঁচজন সংসদ সদস্যসহ দলের অন্যান্য প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে। তারা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা এবং দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন:








