ভারতের পাঁচ রাজ্য-পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরি-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল আজ ঘোষণা হচ্ছে। এই ফলাফলকে ক্ষমতাসীন বিজেপি-বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক-এর জন্য বড় পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে মুখোমুখি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতৃত্বে আছেন মমতা ব্যানার্জি। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়সহ নানা ইস্যুতে উত্তপ্ত ছিল এই রাজ্যের নির্বাচন। ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যদিও এক্সিট পোলের বেশিরভাগে বিজেপির অগ্রগতি দেখানো হয়েছে, বিশ্লেষকদের মতে চূড়ান্ত ফল ভিন্ন হতে পারে।
তামিলনাড়ুতে এক্সিট পোল ইঙ্গিত দিচ্ছে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে পারে। তবে অভিনেতা বিজয়-এর নতুন দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকার গঠনে কংগ্রেসের সরাসরি ভূমিকা সীমিত থাকতে পারে।
কেরালায় নির্বাচনটি অনেকটা গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে পিনারাই বিজয়ন-এর নেতৃত্বের ওপর। পরাজয় হলে ১৯৭৭ সালের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে বাম রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব পুরোপুরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় আছে।
আসামে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র নেতৃত্বে বিজেপি টানা তৃতীয় মেয়াদের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। কংগ্রেসের পক্ষে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গৌরব গগৈ। নির্বাচনী প্রচারে দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ছিল বেশ আলোচিত।
পুদুচেরিতে এন. রঙ্গাসামি-র নেতৃত্বাধীন জোট আবারও ক্ষমতায় ফিরতে চায়। তবে নতুন দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জটিল হয়ে উঠেছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার ধরে রাখতে চাইলেও টিভিকের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
একই দিনে পাঁচ রাজ্যের সাতটি আসনের উপনির্বাচনের ফলও ঘোষণা হবে, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, আজকের ফলাফল ভারতের রাজনীতিতে বড় ধরনের দিকনির্দেশনা দেবে—বিশেষ করে বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ ও বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে।
আরও পড়ুন:








