যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব পেয়েছে ইরান—এমন দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম। তাসনিম নিউজ এজন্সির খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ওই জবাব বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরান।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া ৩০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত না করে সরাসরি যুদ্ধের অবসানে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।,
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এই মুহূর্তে পরমাণু সংক্রান্ত কোনো আলোচনা চলছে না। যদিও এটা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।
ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না; তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে পশ্চিমারা বলছে, অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কারণে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
রোববার ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে জানানো হয়েছে যে তাদের জাহাজ নিরাপদে বের করে আনা হবে।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই উদ্যোগ সোমবার থেকে শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি। এ কার্যক্রমে কোনো বাধা দেওয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন।
ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সংঘাতের কারণে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করেছে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ জারি রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে এপ্রিলের ৮ তারিখ থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে সেটি সম্ভব।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি সংঘাত থেকে সরে আসছে না এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
এদিকে, দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল এই সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। জোশ হাউলে যুদ্ধ কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি এটি শেষ করতে চাই।
অন্যদিকে লিসা মুরকোস্কি মনে করেন, হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে বিশ্বজুড়ে ইরানের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। যদিও তিনি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য অবারিত অনুমোদনের পক্ষে নন।
আইন অনুযায়ী, কোনো সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় সংঘাত ‘শেষ’ হয়েছে, ফলে এ সময়সীমা প্রযোজ্য নয়।
উল্লেখ্য, ২ মার্চ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলার দুই দিন পর কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়।,
আরও পড়ুন:








