মঙ্গলবার

২৩ জুন, ২০২৬ ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

অর্থনৈতিক সংকটে দিশেহারা ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২৬ ১৩:২০

শেয়ার

অর্থনৈতিক সংকটে দিশেহারা ইরান
ছবি সংগৃহীত

ইরানে একদিকে দ্রুত বাড়ছে দ্রব্যমূল্য, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে অর্থনীতিতে বাড়ছে গভীর সংকট। আর এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে জনজীবনে। চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।

খাদ্য ও ওষুধ থেকে শুরু করে গাড়ি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য—প্রায় সবকিছুর দামই গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অনেক বেশি বেড়েছে।

স্থানীয় দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোর ওপর হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ এবং রাজধানী তেহরানে সরকারের আরোপিত প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ,যা এখন ৬৪ দিনে গড়িয়েছে—সব মিলিয়ে ৯ কোটিরও বেশি মানুষের এই দেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছে।,

ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ১৮ লাখ ৪০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বাজারে অস্থিরতার কারণে মুদ্রা লেনদেনও কমে গেছে।,

অন্যান্য বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিক্রেতা ও ক্রেতারা কেউই নিশ্চিত নন পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে বা নতুন পণ্য আদৌ আসবে কি না।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু বিক্রেতা অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে দাম বাড়াচ্ছেন, যা গত এক দশকের উচ্চ মূল্যস্ফীতির অভিজ্ঞতার মধ্যেও খুব কমই দেখা গেছে।

উদাহরণ হিসেবে, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের ২৫৬ জিবি সংস্করণের যুক্তরাষ্ট্রে দাম ১,২০০ ডলার, তা তেহরানের কিছু দোকানে প্রায় ৫০০ কোটি রিয়াল (২,৭৫০ ডলার) দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেক দোকান এই পণ্য বিক্রিই করতে চাইছে না।

একইভাবে, ফরাসি নির্মাতা পিউজোর জনপ্রিয় মডেল পিউজো ২০৬, যা ইরানেও উৎপাদিত হয়, তার দাম পৌঁছেছে প্রায় ৩০০ কোটি রিয়ালে (১৬,৫০০ ডলার)।

আমদানিকৃত গাড়ি আরও দুর্লভ হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পার্শ্ববর্তী বাজারের তুলনায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাড়ির বাজারে ‘প্রতিদিনই’ দাম বাড়ছে। তবে তারা এর জন্য মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত ‘মনস্তাত্ত্বিক’ কারণ এবং মুনাফালোভী বিক্রেতাদের ‘ভুয়া মূল্য নির্ধারণ’কে দায়ী করেছে।

বর্তমানে ইরানে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১৭ কোটি রিয়ালেরও কম (প্রায় ৯২ ডলার)। যদিও পারস্য বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২১ মার্চ শুরু হওয়া নতুন বছরে সরকার এটি প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এছাড়া সরকার প্রতি ব্যক্তিকে মাসে প্রায় ১০ ডলারের কম মূল্যের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভর্তুকি দিচ্ছে।

তেহরানের এক বাসিন্দা বলেন, ‘দাম আর আয়ের দিকে তাকালে বোঝা যায় হিসাব মিলছে না। যা আছে, তা এমন কিছুর পেছনে খরচ করতে হচ্ছে যার মূল্য কমবে না, অথবা এখনই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলতে হচ্ছে, কারণ পরে হয়তো আর সামর্থ্য থাকবে না। ‘

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা



banner close
banner close