শুক্রবার

১ মে, ২০২৬ ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

লিবিয়ায় আটক ৮৯৫ বাংলাদেশির অবস্থান শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ মে, ২০২৬ ১৯:০৪

শেয়ার

লিবিয়ায় আটক ৮৯৫ বাংলাদেশির অবস্থান শনাক্ত
ছবি সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার থাকা ৮৯৫ আটক বাংলাদেশি প্রবাসীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। বেনগাজীর গানফুদা ও ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) তাদের পাওয়া গেছে। আটক প্রবাসীদের দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার ও ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় দূতাবাসের প্রতিনিধিদল সেন্টার দুটিতে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে ৬৯৪ জন এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে ২০১ জন বাংলাদেশি নাগরিকের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে দূতাবাসের প্রতিনিধিদল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দূতাবাস সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম)। লিবিয়ার চিফ অব মিশন মিজ নিকোলেটা জিওর্দানোর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে তিনি আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আইওএমের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য দূতাবাস লিবিয়ান কর্তৃপক্ষ ও আইওএম লিবিয়ার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। এই লক্ষ্যে দূতাবাস থেকে ইতোমধ্যে এসব বাংলাদেশি নাগরিকদের ট্রাভেল পারমিট (আউটপাস)। ইস্যু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

বর্তমানে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলীয় উভয় কর্তৃপক্ষ অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় লিবিয়ান কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের ফলে সাগরপথে যাত্রাকালে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী নিয়মিতভাবে আটক হচ্ছেন।

এ ধরনের বিপজ্জনক ও অবৈধ যাত্রার ফলে একদিকে যেমন গভীর সমুদ্রে নৌকাডুবিতে অকাল প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রবল আশংকা রয়েছে। এ ছাড়াও, আটককৃত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি কারাবাসসহ নানাবিধ আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। এমতাবস্থায়, দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের আত্মঘাতী পথ পরিহার করে সকলকে সচেতন থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।,



banner close
banner close