দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর কিশোর অরুণ, যিনি দারিদ্র্যের কারণে ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন, একটি ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় এসে নতুন করে শিক্ষাজীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কয়েক মাস আগে ট্রাকচালক মেহেরুন আন্নার ধারণ করা অরুণের হাসির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনমনে সাড়া ফেলে এবং পরবর্তীতে প্রশাসনের নজরে আসে। এতে তার পড়াশোনা পুনরায় শুরু করার ব্যবস্থা করা হয়।
জানা যায়, অরুণ আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে ট্রাকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার দৈনন্দিন কাজের মধ্যে ছিল ট্রাক পরিষ্কার করা, মালামাল তোলা-নামানো এবং চালককে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা। একই সঙ্গে কাজ করা ট্রাকচালক মেহেরুন আন্না তাকে ছোট ভাইয়ের মতো দেখাশোনা করতেন।
একদিন কাজ শেষে ক্লান্ত অরুণকে চা পান করানোর সময় মেহেরুন আন্না একটি কৌতুক শোনান। এতে অরুণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাসতে শুরু করেন। সেই মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অরুণের আর্থিক দুরবস্থা ও শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে তাকে পুনরায় স্কুলে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে অরুণ নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে এবং আগামী বছর তার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা রয়েছে। সে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরুণ তার জীবনের এই পরিবর্তনের জন্য ট্রাকচালক মেহেরুন আন্নার অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, কঠিন সময়ে পাশে থাকা এই ব্যক্তির সহযোগিতাই তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং প্রান্তিক অবস্থান থেকে শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








