ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার ধিরাকুলা গ্রামে একটি পথকুকুর ‘কালী’ বিষধর গোখরা সাপের সঙ্গে লড়াই করে ৩০ জনেরও বেশি কিন্ডারগার্টেন শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছে, কিন্তু নিজে বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। শ্রী জগন্নাথ শিশু বিদ্যা মন্দিরের সামনে শিশুরা অবস্থান করছিল, এমন সময় একটি বিষধর গোখরা সাপ স্কুল চত্বরে প্রবেশ করে। কালী তাৎক্ষণিকভাবে বিপদ অনুভব করে সাপটির দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শিশুদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
লড়াইয়ে কালী সাপটিকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। তবে সাপের একাধিক কামড়ে, বিশেষ করে মুখে, গুরুতর আহত হয় সে। গ্রামবাসীদের বর্ণনা অনুসারে, বারবার কামড় খাওয়া সত্ত্বেও কালী পিছু হটেনি এবং সাপটিকে শিশুদের কাছে যেতে দেয়নি। লড়াই শেষে বিষক্রিয়ায় কালী মারা যায়।
ধিরাকুলা গ্রামের বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, একটি সাধারণ পথকুকুর হয়েও কালী যেভাবে শিশুদের রক্ষা করেছে, তা বিরল। স্থানীয়রা কালীকে গ্রামের একজন অভিভাবকের মতো বিবেচনা করতেন।
ঘটনার পর গ্রামবাসীরা কালীর প্রতি সম্মান জানিয়ে তার দেহ সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে ফুল দিয়ে সাজান এবং শোভাযাত্রা করে দাফন করেন। এই আবেগঘন শেষকৃত্যে অনেকেই অংশ নেন।
ওড়িশার এই অঞ্চলে বিষধর সাপের উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। তবে একটি পথকুকুরের এমন সাহসিকতা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম এই ঘটনা প্রকাশ করেছে।
কালীর এই আচরণ প্রাণীদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে। গ্রামবাসীরা বলছেন, কালী শুধু একটি কুকুর ছিল না, সে ছিল শিশুদের নীরব রক্ষক।
এই ঘটনায় কোনো আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের উদ্যোগে কালীকে সম্মানের সঙ্গে শেষকৃত্য করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








