শনিবার

২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৪

শেয়ার

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ছবি সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা পূর্ণ সমর্থন না দিলে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষোভ প্রকাশ করে। পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া এবং যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে অবস্থান পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পেন্টাগনের ওই ইমেইলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্পেনের বিরুদ্ধে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া বা সাসপেন্ড করার প্রস্তাব রয়েছে। কারণ স্পেন তার ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি (রোটা নৌঘাঁটি ও মোরোন বিমান ঘাঁটি) ইরান হামলায় ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।

ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, জোটের প্রতিষ্ঠাতা চুক্তিতে সদস্য দেশের সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইমেইলে মিত্রদের অভিযানে সমর্থন না দেওয়ার কারণে শাস্তির বিকল্পগুলো আলোচনা করা হয়েছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাংবাদিকদের বলেন, তার সরকার ইমেইলের ভিত্তিতে নয়, বরং সরকারি নথি ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের ভিত্তিতে কাজ করে।

যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গেও ইমেইলে উল্লেখ রয়েছে। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্য পূর্ণ সমর্থন না দেওয়ায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় থেকে বলা হয়, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাজ্যের হাতেই ন্যস্ত। দ্বীপবাসীরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারই সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ।

ন্যাটো জোটের মিত্ররা ইরান যুদ্ধে নৌবাহিনী পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে বা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অনীহা দেখিয়েছে। ট্রাম্প এ নিয়ে বারবার সমালোচনা করেছেন।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার রাতে ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদ সফর শুরু করেছেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, এ সফর যুদ্ধ অবসানে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রয়াস। আরাঘচি পরে রাশিয়া ও ওমানেও যাবেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার শনিবার ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। দুই পক্ষ সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ৪৮ ডলার পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এখনও মূলত অবরুদ্ধ থাকায় এবং অঞ্চলের তেল উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম উচ্চমাত্রায় রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরী ২৩ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বাধীন এলাকায় (ভারত মহাসাগরে) পৌঁছেছে। এখন অঞ্চলে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে।

পটভূমিতে উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও ইউরোপীয় দেশগুলো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করলেও ন্যাটো থেকে কোনো দেশকে বহিষ্কারের আইনি সুযোগ নেই। শান্তি আলোচনা চলমান থাকলেও হরমুজ প্রণালির অবস্থা এখনও সংকটপূর্ণ।



banner close
banner close