বৃহস্পতিবার

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভারত ও চীনকে ‘জাহান্নাম’ বলে ট্রাম্পের তোলপাড় করা পোস্ট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৩৩

শেয়ার

ভারত ও চীনকে ‘জাহান্নাম’ বলে ট্রাম্পের তোলপাড় করা পোস্ট
ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও চীনের নাগরিকদের নিয়ে চরম বিতর্কিত এক পডকাস্ট শেয়ার করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনপ্রিয় মার্কিন রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের ‘স্যাভেজ নেশন’ নামক ওই পডকাস্টে ভারত ও চীনকে ‘জাহান্নাম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যা ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।

পডকাস্টটিতে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব আইনের কঠোর সমালোচনা করে স্যাভেজ দাবি করেন, ভারত ও চীন থেকে আসা গর্ভবতী নারীরা কেবল নাগরিকত্বের সুবিধা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেন এবং পরবর্তীতে তাদের পুরো পরিবারকে সেই ‘জাহান্নাম’ থেকে নিয়ে আসেন। এমনকি তিনি ভারতীয় ও চীনা অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ বলে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, তারা মাফিয়াদের চেয়েও বেশি ক্ষতি করছে এবং মার্কিন শ্বেতাঙ্গদের চাকরির সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে।

‘স্যাভেজ নেশন’ নামের ওই মার্কিনিদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করতে গিয়ে স্যাভেজ অভিযোগ করেন, “এই দুটি এশীয় দেশের (ভারত-চীন) মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসে ‘নবম মাসে একটি শিশুর জন্ম দিতে’, এবং এই আইন তাদেরকে ‘তাৎক্ষণিক’ মার্কিন নাগরিকে পরিণত করে। ‘তারপর তারা চীন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনো জাহান্নাম জায়গা থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।”

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অ-নাগরিকদের ঘরে জন্ম নেয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেয়ার ধারণার সমালোচনা করেছেন এবং বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে না দিয়ে একটি জাতীয় গণভোটের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই রেডিও উপস্থাপক আরও দাবি করেন, তিনি একসময় ভারতীয়দের একজন বড় সমর্থক ছিলেন যতক্ষণ না, তিনি উপলব্ধি করেন যে তাদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো হাই-টেক কোম্পানিতে শ্বেতাঙ্গদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ‘শূন্য’। কারণ এসব কোম্পানিতে প্রায় সমস্ত অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ভারতীয় ও চীনাদের দ্বারা পরিচালনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

স্যাভেজ অভিযোগ করেন, আধুনিক অভিবাসন প্রেক্ষাপটে মার্কিন সংবিধান পুরোনো হয়ে গেছে। বিমানযাত্রার যুগে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেয়ার বিষয়টি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানটি লেখা হয়েছিল বিমান চলাচলের আগে, বলাই বাহুল্য, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, রেডিওরও আগে। এবং আপনি বলতেই পারেন, এই যুক্তিগুলোর কয়েকটি কতটা প্রাসঙ্গিক যখন মানুষ গর্ভাবস্থার নবম মাসে বিমানে করে এখানে আসছে।’

ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন এক সময়ে শেয়ার করলেন যার ঠিক এক দিন আগেই তিনি সিএনবিসি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেয়ার নিয়ম নেই। তবে তথ্যগতভাবে ট্রাম্পের এই দাবিটি সঠিক নয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বাস্তবে, বিশ্বের প্রায় তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেয়ার বিধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশে এই আইন প্রচলিত আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামনে নির্বাচন থাকায় ভোটারদের টানতে ট্রাম্প আবারও কঠোর অভিবাসন বিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন। তবে তার এই উসকানিমূলক পোস্ট ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।



banner close
banner close